

“অথচ প্রকৃতি কিন্তু দুহাত ভরে দিয়েছিল কলকাতাকে সুস্বাস্থ্যে বেঁচে থাকার সম্পদ – পূর্ব কলকাতার ১০ হাজার হেক্টর জলাভূমি (যা আজ বুজে গিয়ে ৩০০০ হেক্টরের কিছু বেশী), জলাভূমির এখনো বেঁচে থাকা ১৭০ ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সবুজকণা (ফাইটো প্ল্যাঙ্কটন—গাছের চেয়ে এই সবুজকণার অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশী) যা আজ শহরবাসীর স্বাস্থ্যরক্ষার প্রাণদায়ী ।
অক্সিজেনের যোগান দিয়ে চলেছে। এর সাথে প্রতিদিন কলকাতার বাজারে আসছে ২২টন মাছ নিম্নবিত্ত কলকাতাবাসীর পুষ্টি জোগাতে। আবার ধাপার মাঠ থেকে । প্রায় ১৫০ টন তাজা সবজি দৈনিক কলকাতাবাসীর খাবার চাহিদা মেটাচ্ছে। এ সম্পদ পৃথিবীর অন্য কোনো শহরে নেই। নেই কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই হাজার হাজার মানুষের (অধিকাংশই তফশীলি সম্প্রদায়ভুক্ত) কর্মসংস্থানের এমন সহজ সুন্দর ব্যবস্থা ।... তবু হয়তো কোনো ক্ষুদ্র স্বার্থে – তাৎক্ষণিক লাভের আশায় দিনে দিনে এই জলাভূমি-জল সম্পদ বহুতল ইমারতের নীচে চাপা পড়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের রাংতা-গয়না উঠছে ক্রমশঃ কঙ্কালদেহী জন্মভূমির গায়ে ।”